আন্তর্জাতিক ডেস্ক | NRB News Europe
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে কানাডাকে ‘সহযোগী সদস্য’ হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব সামনে এসেছে। তবে এ ধরনের সদস্যপদের কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইউরোপের সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করলেও দেশটির নবনিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, কানাডা সরাসরি ইইউর ২৭ সদস্যের বাজেটে অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না।
কানাডার আসন্ন ইইউ রাষ্ট্রদূত জোনাথন উইলকিনসন সিবিসির ‘দ্য হাউস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, সহযোগিতার ক্ষেত্রে কানাডা নির্দিষ্ট কিছু বিষয় বেছে নেবে। এটি সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদও নয়।
তবে কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিতে অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘সিকিউরিটি অ্যাকশন ফর ইউরোপ’ (SAFE) কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন উইলকিনসন। এ কর্মসূচির আওতায় সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের জন্য ঋণ পেয়ে থাকে। কানাডা বর্তমানে এ কর্মসূচিতে যুক্ত একমাত্র ইউরোপের বাইরের দেশ।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে কার্নি ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে অ-কৃষিপণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে সহজ ও ডিজিটাল বাণিজ্য, ইইউর শিক্ষা ও বিনিময় কর্মসূচি ‘ইরাসমাস প্লাস’-এ কানাডার অংশগ্রহণ এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন কর্মসূচি ‘হরাইজন’-এর পরবর্তী সংস্করণে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ।
এ ছাড়া কম্পিউটিং সক্ষমতা, ব্রডব্যান্ড সংযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা এবং আর্থিক সেবার সমন্বিত বাজার গড়ে তোলার বিষয়েও সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। উইলকিনসন বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খাতে দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, যাতে তারা নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ ধরে রাখতে পারে। প্রস্তাবিত জোটের বিনিময়ে কানাডাকে কী ধরনের বাধ্যবাধকতা নিতে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইইউর সদস্য দেশগুলোর অনুমোদন এবং কানাডার পার্লামেন্টের সমর্থনও প্রয়োজন হতে পারে।
অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে কি না—এমন প্রশ্নে উইলকিনসন বলেন, এখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তিনি আরও বলেন, কানাডা তার সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি বজায় রাখবে। দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যাপকভাবে মানুষের অবাধ চলাচলের বিষয়টি এ উদ্যোগের লক্ষ্য নয় বলেও জানান তিনি। কার্নি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত জোটের কাঠামো নিয়ে কানাডার পার্লামেন্টে আলোচনা ও ভোট হবে।

কানাডা ও ইউরোপের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি এ উদ্যোগকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং এর পেছনে ‘শত্রুতামূলক উদ্দেশ্য’ থাকলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, কানাডার রাষ্ট্রদূত উইলকিনসন মনে করেন, এ বিষয়ে ইউরোপীয় পক্ষ নিজেদের স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।
আয়ারল্যান্ডের ইউরোপীয় বিষয়ক ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থমাস বাইর্ন বলেন, গণতন্ত্র, মুক্ত বাণিজ্য ও আইনের শাসনের মতো বিষয়ে কানাডা ও ইউরোপের মধ্যে মিল রয়েছে। তাঁর মতে, পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার করাই আলোচনার মূল বিষয়। তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য আরাশ সাইয়েদি প্রস্তাবটির আনুষ্ঠানিক কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কাঠামো নিয়ে আলোচনা না করে কূটনীতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কানাডার প্রস্তাবিত সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো এখনো নির্ধারিত হয়নি। কোন কোন কর্মসূচিতে কানাডা অংশ নেবে, অর্থায়নের ধরন কী হবে এবং উভয় পক্ষের দায়িত্ব ও অধিকার কী থাকবে এসব বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। বর্তমানে কানাডা ও ইইউর বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি হলো ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’ (CETA)। প্রস্তাবিত নতুন জোটের মাধ্যমে বাণিজ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


