Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

৪৮ ঘণ্টায় ৪৮ হাজারের বেশি অভিবাসী মরক্কোতে ফিরেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | এনআরবি নিউজ ইউরোপ

স্পেনের উত্তর আফ্রিকার স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলের পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৪৮ হাজারেরও বেশি অভিবাসী মরক্কোতে ফিরে গেছেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মরক্কোর সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক পুনঃগ্রহণ (Readmission) চুক্তির আওতায় পরিচালিত যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া অভিবাসীদের ঢলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথে মরক্কো থেকে সিউতায় প্রবেশ করেন। এর মধ্যে ৪৮ হাজারেরও বেশি মানুষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মরক্কোতে ফিরে যান। তবে এই মানবিক সংকটে অন্তত ৬৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে বলে স্পেনের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের এক পর্যায়ে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ১৫০ জন পর্যন্ত অভিবাসীকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে সিউতার রাস্তাঘাটে অভিবাসীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, ফিরে যাওয়া অভিবাসীদের প্রায় অর্ধেকই স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন। সিউতায় খাবার, পানি ও আশ্রয়ের সংকট এবং বৈধ কাগজপত্র পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় তারা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অতীতের অভিবাসী সংকটেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। তবে সংকট পুরোপুরি শেষ হয়নি। এখনও প্রায় ১২ হাজার অভিবাসী সিউতায় অবস্থান করছেন। এতে শহরের সেন্ট্রো দে এস্তানসিয়া তেম্পোরাল দে ইনমিগ্রান্তেস (CETI) বা অস্থায়ী অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পৃথক আইনি ও মানবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ।

Ceuta

শনিবার সকালে সিউতার তারাহাল (Tarajal) সীমান্ত এলাকায় স্প্যানিশ সেনা ও পুলিশকে টহল দিতে দেখা যায়। একই সময়ে সিভিল গার্ড স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে সীমান্তের সমুদ্রে ৫০০ মিটার দীর্ঘ ভাসমান বয়া স্থাপনের কাজ শুরু করে। সরকার জানিয়েছে, নতুন এই ভাসমান বাধা সমুদ্রপথে অনিয়মিত প্রবেশ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সিউতা সংকটের প্রভাব ইউরোপীয় রাজনীতিতেও পড়েছে। সংকটের জেরে ইতালি স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয় এবং স্পেন থেকে ইতালিগামী যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র পরীক্ষা শুরু করে। এ সিদ্ধান্তে স্পেন সরকার কূটনৈতিক অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

এ বিষয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও অবৈধ প্রতিক্রিয়া মেনে নিতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিভাজন নয়, বরং ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক আহ্বানেরও দাবি জানান।

অন্যদিকে, ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। যদিও সিউতায় নতুন করে অভিবাসীদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়েছে, তবুও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শেনজেন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles