হোসাইন ইকবাল। হেড অফ নিউজ, NRB News Europe
অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাটি নিয়ে আরও গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে। laSexta-এর হাতে থাকা নথির তথ্য অনুযায়ী, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখেই দমকল বাহিনী ওই বেসমেন্টে ব্যাটারি রাখা ও ব্যবহারের বিষয়ে অভিযোগ করেছিল। স্থানটি অনুমোদিতভাবে শুধুমাত্র গাড়ি পার্কিংয়ের গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহারের কথা ছিল। সেখানে ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি রাখা বা চার্জ করার অনুমতি ছিল না।
ওই সময় মাদ্রিদ মিউনিসিপ্যাল পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ব্যাটারিগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে সেগুলো সরানো হলেও কয়েক সপ্তাহ পর আবার সেখানে একই ধরনের কার্যক্রম চালানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। ১২ জানুয়ারি ২০২৬ পুলিশের পরিদর্শনে আগের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে ধরা পড়ে। এরপর নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ওই স্থানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইলেকট্রিক বাইসাইকেল চার্জ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম বৈধ করার জন্য “Declaración Responsable” জমা দেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে সেই আবেদন অকার্যকর ঘোষণা করা হয়। কারণ, ওই গ্যারেজে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা আইন অনুযায়ী অনুমোদিত ছিল না। একই সঙ্গে কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে এপ্রিল মাসে মিউনিসিপ্যাল পুলিশের পরিদর্শনে দেখা যায়, বন্ধের নির্দেশও কার্যকর হয়নি। এরপর কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক কার্যক্রম বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করে। নথি অনুযায়ী, ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রথম ১,০০০ ইউরোর জরিমানা আরোপ করা হয়। কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ না মানার কারণে এটি ছিল প্রথম coercive fine।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের চার্জিং পয়েন্ট, চার্জার অথবা ব্যাটারির বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত কারণ বলা যাচ্ছে না। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যারেজটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও গোলকধাঁধার মতো। সেখানে বিপুলসংখ্যক ইলেকট্রিক বাইসাইকেল রাখা ও চার্জ করা হতো। বাসিন্দারা দাবি করেছেন, এত বেশি বাইসাইকেল রাখার জন্য জায়গাটিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা ছিল না, তা নিয়ে তারা আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
পুলিশ এখন আগুনের প্রকৃত কারণের পাশাপাশি নিহত ইউসুফ বা অন্য কোনো রাইডার ওই স্টোররুমে বসবাস করতেন কি না, সেটিও তদন্ত করছে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে যে স্থানে ইলেকট্রিক বাইসাইকেল ও ব্যাটারি রাখার অনুমোদন ছিল না, সেখানে আগেই অভিযোগ, বন্ধের নির্দেশ এবং জরিমানা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে কার্যক্রম চলছিল? অগ্নিকাণ্ডের পূর্ণ কারণ এবং এর জন্য কারও দায় রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।



