এনআরবি নিউজ ইউরোপ ডেস্ক
মরক্কো সীমান্তবর্তী স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউটা (Ceuta)-তে অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢলে চরম সংকটে পড়েছে স্প্যানিশ পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা। পরিস্থিতিকে “সম্পূর্ণ মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা” আখ্যা দিয়ে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন সিউটার স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান হুয়ান ভিভাস (Juan Vivas)। স্থানীয় পুলিশ সদস্যদের ভাষায়, “আমরা আর সামলাতে পারছি না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এটি ২০২১ সালের মে মাসের অভিবাসী সংকটের চেয়েও ভয়াবহ।”
স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ে বলা হয়েছে, সমুদ্রপথে সিউটায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের সীমান্ত থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। দ্রুত ফেরত পাঠানোর (Hot Return) বিধান কেবল তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যারা সীমান্তের বেড়া টপকে প্রবেশের চেষ্টা করে।
এই রায়ের পর থেকেই শত শত মানুষ মরক্কো থেকে সাঁতরে সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা করছে। অনেকেই সফলভাবে স্পেনে প্রবেশ করে একে অপরকে আলিঙ্গন করছেন, বিজয়ের চিহ্ন দেখাচ্ছেন এবং শুকনো কাপড়ের খোঁজ করছেন। অন্যরা আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সিউটার জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তারা এখন শুধুমাত্র আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে পারছে। নতুন করে আসা বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তাদের আর নেই। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা শুক্রবার সিউটা সফরের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সিভিল গার্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।
“৩০০ জনকে আর থামানো যায়নি” সিভিল গার্ডের বৃহত্তম ইউনিয়ন AUGC-এর সিউটা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাশিদ সবিহি জানান, সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা প্রায় ৩০০ অভিবাসীকে মাত্র এক ডজন পুলিশ সদস্য পাহারা দিচ্ছিলেন।
তার ভাষায়, “তারা সবাই একসঙ্গে দৌড়ে পালিয়ে যায়। আমাদের পক্ষে তাদের থামানো সম্ভব হয়নি। আমরা বুঝতে পারছি না কী করতে হবে। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক।”তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিনে সিউটায় সাঁতরে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ২৫ জনেরও বেশি অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ইউনিয়ন SUP সতর্ক করে বলেছে, যদি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের পর কার্যকরভাবে প্রত্যাবাসন করা না যায়, তাহলে আরও বেশি মানুষ একই পথে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করবে।
অন্যদিকে পুলিশ ইউনিয়ন Jupol অভিবাসন আইন সংস্কারের পাশাপাশি মরক্কোসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্রুত প্রত্যাবাসন চুক্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা না থাকলে স্পেনে অবৈধ অভিবাসনের প্রবণতা আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব জননিরাপত্তার ওপরও পড়বে।
সিউটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত দুটি স্থলসীমান্তের একটি। সাম্প্রতিক এই অভিবাসী ঢল শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নয়, মানবিক পরিস্থিতিকেও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন আশঙ্কা করছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
সুত্র EL PAÍS



