হোসাইন ইকবাল। হেড অফ নিউজ, NRB News Europe
২৬ আগস্ট ২০২৬ নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কত দ্রুত একটি বড় মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে বরফ, পাথর ও পানির বিশাল স্রোত তৈরি হয়। এতে নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নেপালের এই ভয়াবহ ঘটনা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কবার্তা। বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে বিশেষ করে ঢাকা ও অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে।
নগর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এবং ভবন নির্মাণের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রাজউক (RAJUK) জনমনে ক্রমেই দুর্নীতি, অনিয়ম ও কথিত জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। রাজউকের অনুমোদন ও সনদের ভিত্তিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন নগর এলাকায় একের পর এক ভবন ও বহুতল স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো নির্মাণকাজ চলাকালীন কার্যকর তদারকি কোথায়? কাগজে-কলমে অনুমোদন থাকলেই কোনো ভবন নিরাপদ হয়ে যায় না। অনুমোদিত নকশা, কাঠামোগত নকশা, নির্মাণসামগ্রীর মান এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধিমালা বাস্তবে যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কঠোর ও ধারাবাহিক পরিদর্শন।

কার্যকর নজরদারি, জবাবদিহি ও বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগের অভাব একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মানবসৃষ্ট মহাবিপর্যয়ে পরিণত করতে পারে। শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে ঢাকা এবং অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকাগুলো নজিরবিহীন মানবিক সংকটে পড়তে পারে। হাজার হাজার মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ার পাশাপাশি উদ্ধার ও জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তাই দুর্যোগ আঘাত হানার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে এখন থেকেই ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। নির্মাণবিধির কঠোর প্রয়োগ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পরিদর্শন, নির্মাণের প্রতিটি ধাপে কার্যকর তদারকি এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
নেপালের সাম্প্রতিক দুর্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখনো একা আসে না; দুর্বল অবকাঠামো, অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও তদারকির ঘাটতি থাকলে তার ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। আজ যে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, অবহেলা করলে ভবিষ্যতে সেটিই পরিণত হতে পারে এক অপূরণীয় জাতীয় বিপর্যয়ে। তাই এটি শুধু সতর্কবার্তা নয়—সম্ভাব্য ভূমিকম্প ও নগর দুর্যোগ মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান।



