Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

রোমে বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | NRB News Europe
রোমের উপকণ্ঠের কাসালোত্তি এলাকায় এক বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ইতালির বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতে ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের বড় ছেলে, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু বেগম ওরফে হোসনেজাহান মমতাজ (৩৮) এবং তাদের কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা। বিভিন্ন ইতালীয় গণমাধ্যমে শিশুটির বয়স ৬ থেকে ৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, হামলার সময় পরিবারের বড় ছেলে আমির হোসেন অয়ন বাসার বাইরে ছিলেন। পরে বাসায় ফিরে রক্তাক্ত দৃশ্য দেখতে পেয়ে তিনি হামলাকারীর মুখোমুখি হন। একপর্যায়ে তিনিও হামলার শিকার হন। আহত অবস্থায় কোনোভাবে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে রোমের জেমেল্লি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ইতালীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে প্রাণসংকটমুক্ত।

রোমে বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা

ঘটনার পর রোম পুলিশের স্কোয়াড্রা মোবাইল, ফরেনসিক বিভাগ এবং কারাবিনিয়েরি বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বড় ধারালো চপার বা মন্নাইয়া উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা নিহত পরিবারের পরিচিতজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিহতদের মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারী পরিবারের পরিচিত কেউ ছিলেন এবং তাকে স্বেচ্ছায় বাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছিল।

ইতালির বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের এক বাংলাদেশি স্বদেশি ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত না হলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারিবারিক বিরোধ কিংবা আর্থিক দ্বন্দ্বের বিষয়গুলো তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এ ঘটনায় রোমের প্রসিকিউটর অফিস হত্যা ও গুরুতর আহত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। ইতোমধ্যে হত্যার অস্ত্র হিসেবে সন্দেহভাজন চপারটি জব্দ করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ইতালিতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর দেশে পৌঁছালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক ও বেদনার পরিবেশ বিরাজ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles